আমি কলেজের এক খোলা জানালা দিয়ে যেই মাঠে চোখ রেখেছি, কি এক অদ্ভুত আনন্দ ঢেউয়ের মত আমার চোখে নেচে উঠল হেসে। ঘাস খাচ্ছে এক সুদর্শন ছাগল ছানা আর তার দুপাশে আছে দু'টি সাদা বক পাখি। মাথায় ঝুঁটি আছে অনেকটা লালন প্রেমী নরনারীর মত। কেমন প্রাণে ভরা উজ্জল সাদা বুক। পা গাঢ় বাদামী চীনা নারীদের গায়ের রঙের মত। কটকটে ও সুঠাম। ছানাটি সর্দ ফুটে উঠা কচি ঘাস মনের আনন্দে দাঁতে কুচকুচ করে ছিঁড়ে খাচ্ছে একা আর বক পাখি দু’টি ঐ ঘাস থেকে ঝাঁপিয়ে লাফিয়ে পড়া পোকামাকড়গলো দক্ষ শিকারীর মত অতি মনোযোগ দিয়ে লপাং লপাং করে ধরে ধরে গিলে খাচ্ছে।অথচ কেউ কারো প্রতি বিশ্রী হিংসার কোন বিষবাষ্প নিক্ষেপ করেনি। কারো খাবারও কেউ খায়নি। এভাবে একের খাবারে দয়াময় আবার অন্যের খাবার অতি সযত্নে সাজিয়ে রেখেছেন।কত পরম দয়ালু প্রিয় দয়াময় আমার! অথচ আমরা মানুষ তা পারি না। দেখলাম,পেট পুরে খেয়ে যখন পাখিরা উড়ে গেল জলের উপর পাখা মেলে,তাদের ছায়াগুলোও উড়ে গেল তাদের সাথে সাথে পিছে পিছে।মনে হলো ছায়াগুলো যেন মানব দেহ আর পাখিগুলোই যেন মানব প্রাণ। আমরা কেবল ছায়া দেখি,প্রাণপাখি দেখি না।দেখতেও পায় না এই সুন্দর পলকতোলা চোখে।প্রাণ পাখি যেখানে উড়ে যায়, দেহও এভাবে ওখানেই চলে যায় একদিন।হয়তো ছায়ার অন্ধ চোখে আমরা প্রাণের উড়া দেখতে পায় না। এই যা।
প্রশ্নমালাঃ
১. গল্পটির শিরোনামের ব্যাখ্যা কর।
২. এই গল্পে বক পাখি কি আর ছাগলই বা কি?
৩. যা দেখা যায় না তা এই গল্পে লেখক কিভাবে দেখলেন?
৪.গল্পটি এত সাদামাঠা কেন?
৫. গল্পটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লিখ।
No comments:
Post a Comment