আগে ঘাঁটি পরে গান।জনৈক এক পথে ধারে বসে এক ভাজা বাদম বিক্রিতা বলেছিলেন। দোকান বলতে সেখানে ছিল পান, বাদাম আর কম দামী সিগারেট ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ধোঁয়াউঠা সোনার আগুনে টানা হৃদয় পুড়ানো সস্তা বিড়ি। একেবারে সবজি বাজারের সম্মুখেই তার দোকান।দোকান তো নয়, এক কোম্পানির প্রচার ও প্রসারের সুবাদে দেওয়া এক পুরোনো বড় ছাতার তলায় এক ভাঙা চেয়ার ও একটি নড়বড়ে দাঁতের মত চার পায়ে কোন মতে দাঁড়িয়ে থাকা জং ধরা টেবিলে পলিথিন বিছিয়ে তার উপর চিবন সেবনের দ্রব্যগুলো সাজিয়ে দিনভর চলে তার খোলা মাঠে খোলা এই দোকান। যারা বড় মাপের মানুষ তারা সবজি বা মাছতরকারি কেনা বেঁচা করে তার কাছে এক রসের পান কিনে মুখে দিয়ে চিবুনির সুখ ভক্ষণ করেন।আর আমাদের মত যারা হতছাড়া তারা দশ / বিশ টাকার বাদাম কিনেন। আর যারা নিরেট খেটে খাওয়া মানুষ তারা কিনেন বিড়ি। দোকানির মুখভরা দাড়ি। পেকে সেগুলো একদম সিলভারের হাঁড়ির মত সাদা হয়ে গেছে। হাতের স্পর্শই ওখানে বেশী মানায়, হৃদয়ের স্পর্শ নয়। এক ভ্যানওয়ালা একটি সিগারেট নিয়ে তার নিম্ন ভাগে ফুঁ দিয়ে অগ্রভাগে আগুন দিতে দিতে বলল, চাচা, দাড়িতে কলপ মারেন। হাই স্মাট লাগবে। চাচা বলল, সে বয়স কি আছে ব্যাটা।তাছাড়া সেই সময় কই আমার। সে বলল,চাচা,এতে আপনার মহিলা কাস্টোমার বাড়বে। এটা কিভাবে হয় রে বাপ?সে বলল, মহিলারা স্মার্ট লোকের হাতে পান খাওয়া ভালোবাসে।চাচা বলল, জানি,কিন্তু ওরা পান খায়,দাম দেয় না।আর দাম না দিলে আনন্দে গান গামু কেমনে?সে বলল, এ কি শুনালেন, চাচা! চাচা বলল, এত দিন দোকানদারি করে এটাই শিখেছি আমি।সে বলল, সেটা কি চাচা? চাচা হেসে বলল, আগে ঘাটি, পরে গান। ভ্যানওয়ালা অতি আশ্চর্য হয়ে বলল, ঘাটি মানে? চাচা এ বয়সেও ঘাটা ঘাটি ছিঃ....চাচা ছিঃ। চাচা বলল, আরে ঘাটি মানে- আলুর ঘাটি। আগে আলুর ঘাটি,তারপরে শুনো গান।
No comments:
Post a Comment