রাজহংসের ডিম আমার প্রিয় খাবার। বিল ঝিলের কাদাজলে এদের বাস। এই ডিমে খাদ্যগুন সত্যিকার অর্থেই অনেক অনেক বেশী। এরা জলে স্হলে উভয়েরই বুকের চঞ্চূচারণ প্রাণী। দুধের সাথে জল মিশালে একমাত্র রাজহংসই কিন্তু দুধকেই জল থেকে বেছে নিয়ে খেতে পারে। প্রাণীজগতে কেন মানুষও রাজহংসের মত এত চমৎকার কৌশল আজো জানে না। সাবাইহাটে মাছ বাজারে এক লোক আমাকে দশটি রাজহংসের ডিম দিতে চেয়েছিল আজ। খুব এই শীতের ভোরে আঁধারের বাদল নামালো নিদারুণ কুয়াশা পড়ছে চারিদিকে।ডিমের আশায় এক ভ্যানে চেপে দারুন কুয়াশা ঠেলেই মাছ বাজারে পৌঁছলাম।হাঁটা আজ আর হলো না আমার। সময় ভোর সাতটার মত হবে। ডিম সরবারহকারী লোকটির যেখানে থাকার কথা সেখানে তাকে দেখতে না পেয়ে আমি ভাবলাম নিশ্চয় সে আমাকে ফাঁকি দিয়েছে। যেমন ভাবা ওমনি এক বিকট আওয়াজে একটি বাস ও একটি মাইক্রোর সংঘর্ষ। মাইক্রোর জানালার পুরো কাঁচ ভেঙে এসে রাস্তার মাঝখানে এসে পড়লো। মাছবাজারের পানির স্রোত ঐ রাস্তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বর্ষার জলের মত । কেউ দেখার নেই। ফলে মাটির নীচের গ্যাস আর উপরের কুয়াশা সেখানে গভীর আঁধারের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। মোটর সাইকেল আরোহীরা ঐ কাঁচের উপর আসছে আর পিছলে পড়ে রক্তাত হচ্ছে। তার উপর অটো,তার উপর পড়ছে কত কি ঐ কুয়াসার আঁধারে পাকা রাস্তায়।দয়াময়ের কৌশল বুঝে পৃথিবীতে এমন দ্বিতীয়টি কেউ নেই।কুয়াসা সকালে এই দৃশ্য যারা দেখলো, তাদের হৃদয় কাঁপলো আর চোখ কাঁদলো।আমি না পেলাম লোকটির দেখা,না পেলাম রাজহংসের ডিম।
No comments:
Post a Comment